ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে যান তিনি। এ সময় দুই নেতা কোলাকুলি করেন, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং কুশল বিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে দলীয় মতপার্থক্য ভুলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, আগামী দিনে ঠাকুরগাঁওকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জবাবে দেলাওয়ার হোসেনও জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর দুই প্রার্থীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে যান তিনি। এ সময় দুই নেতা কোলাকুলি করেন, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং কুশল বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে দলীয় মতপার্থক্য ভুলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, আগামী দিনে ঠাকুরগাঁওকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জবাবে দেলাওয়ার হোসেনও জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর দুই প্রার্থীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিগত সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘রহমান ফাউন্ডেশন ও শক্তি’র উদ্যোগে মোবাইল হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মুশফিকুর রহমান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এমএসআর খাতের টেন্ডারের ৬০-৭০ শতাংশ এবং জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন টেন্ডারে লুটপাট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সরকার স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিগগিরই প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হবে, যার কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের আটটি বিভাগে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী দুই মাসে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ১৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন এনে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়। জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করে মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের নেতাদের উপর এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বাংলাদেশ এবং যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে গতকাল সেখানে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিক্ষোভ সমাবেশে। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, "আওয়ামী লীগের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মানুষকে মবের শিকার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, "কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো এমন একটি কার্ড চালু করুন, যে কার্ড দেখিয়ে মানুষকে প্রমাণ করতে হবে না যে তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। মুক্তিযুদ্ধের কথা বললে, ইতিহাস-সংস্কৃতি নিয়ে কথা বললে কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে মানুষকে যেন আটক, হয়রানি ও মবের শিকার হতে না হয়। ১৮ কোটি মানুষ এই ভোগান্তি চায় না।" তিনি আরও বলেন, "দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বন্দর ব্যবস্থাপনা কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার কারণে মানুষকে আটক করা হচ্ছে। এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা আন্দোলন করেননি। তাঁরা মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন।" সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশের) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, "গতকাল নেতাকর্মীরা যখন কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন পুলিশ সেখানে ঢুকে দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। মব সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার পরিবর্তে যারা মবের শিকার হয়েছেন, পুলিশ গতকাল তাঁদের ওপরই চড়াও হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও পুলিশ বাহিনীর চরিত্র আজ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।" মাহির বলেন, "ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা শুধু হামলার সংস্কৃতির অংশ নয়; এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন, তাঁদের কণ্ঠরোধ করতে চাওয়া হচ্ছে। যারা শোষণ-বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চান, তাঁদেরও কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা চলছে।" তিনি আরও বলেন, "সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দেন। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও এ বিষয়ে তাঁর ন্যূনতম হুঁশ-জ্ঞান আছে বলে মনে হয় না। দেশে প্রতিনিয়ত ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনা ঘটছে।যারা এ দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রম দিয়েছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন এবং রক্ত দিয়েছেন, সরকার তাঁদের ওপরই দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, বিএনপি সরকারও একই কায়দায় দেশের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।" সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশের) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু। সমাবেশ শেষে নেতারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাদুঘরের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় গিয়ে শেষ করে। সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলের মুক্তির পর গতকাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় ওই মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে সিপিবি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।