ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা বিক্রি এবং আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’ টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, বাজারের চাহিদা যাচাই করে আটা ও আরও কয়েকটি পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাজার জরিপ চলছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হবে। সংস্থাটির লক্ষ্য আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া। ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে সংস্থাটি। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি টিসিবিও সামান্য মুনাফা করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সংস্থাটির মুনাফা হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বাড়বে। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর। বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, প্রায় চার মাস আগে নতুন পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা। নতুন পণ্য যুক্ত হলেও ভর্তুকির আওতায় বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভোক্তাদের ওপর থাকবে। নতুন পণ্যগুলোও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, ‘সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।’ টিসিবির পরিকল্পনা, ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভোক্তারা সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারবেন। এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং এপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ অন্যান্য ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি। **বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পেঁয়াজ-আলু কেনা** পণ্য সংগ্রহ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না সংস্থাটি। বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।’ বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলেই পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। টিসিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখে ভর্তুকির চাপ কমাতে শুধু ব্যয় সংকোচন যথেষ্ট নয়, বাণিজ্যিক আয়ও বাড়াতে হবে। নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে চায় সংস্থাটি।
পাবনার সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহত সবাই কিশোর ও তরুণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার সোনাপাতি বিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ওই ঘরেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, বজ্রপাতে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির চেমেনি মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচ ২০০৬-এর ৬ মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং স্বৈরাচারী ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কারণে বহুলোক অন্যায়ভাবে চাকরি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস মুছে দিয়ে এই কর্মকর্তাদের মর্যাদার সঙ্গে পেশাগত জীবনে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "জনগণ দিনশেষে পুলিশের কাছেই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে। পুলিশের সততা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।" দেশ ও জনগণের সেবা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পবিত্রতার সাথে পালনের জন্য তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ও কৌশল বদলেছে। সেজন্য সরকার ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবের সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়াতে 'ট্রেনিং অব দ্য ট্রেইনার্স' (ToT) কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের চীনসহ বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো অর্থ বরাদ্দ পেন্ডিং থাকবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মোঃ মাইনুল হাসান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, একাডেমির প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গত আট মাসের মেয়াদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা কাস্টোডিয়াল ডেথের ঘটনা ঘটেনি। এটি স্পষ্ট করে যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে জনকল্যাণ সাধনে সরকারকে আরও অনেক দূর যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সফলভাবে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, গ্রেফতার, যথাযথ তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সক্ষম হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, ভোটগ্রহণ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী তখন পর্যন্ত (দুপুর) প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নাটোরের সংসদ সদস্যের সন্তানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও গ্রেফতার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সন্তান যদি সংসদ সদস্যেরও হয় এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, রিমান্ডে আনা হয়েছে।" এতে আবারও প্রমাণিত হয় যে বর্তমান সরকার প্রভাব-প্রতিপত্তি বা পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করছে।
কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিরাপদে উড্ডয়ন করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৭৭। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ের পরে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হয়। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল দল ও জাপানের টেকনিশিয়ানরা ত্রুটি মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেরামত শেষে বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে ফ্লাইটটির পুশব্যাক করা হয়। এরপর রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে এটি নিরাপদে বাংলাদেশের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটটি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার সময় এ বিলম্বের ঘটনা ঘটে। তবে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর ফ্লাইটটি নিরাপদে যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ৯ টি মামলায় শুনানি ও রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট ঐ মামলাগুলোর আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করে জালিয়াতির ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃতাধীন আপিল বিভাগে বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০% নারী কোটা সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি উল্লেখ করে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূল ৫৮ জন পিটিশনারের বাইরে অতিরিক্ত ৬৪ জন নতুন সহ-পিটিশনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়। তবে সেটি নিয়মিত সেকশন প্রসেস, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষকে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর) নোটিশ পাঠানো ছাড়াই ফাইল সরাসরি বিচারকের কাছে রেখে মাত্র একদিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়। মূল শুনানির মাত্র চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট বিভাগ রায় ঘোষণা করেন, যেখানে মূল আবেদনকারীদের বাদ রেখে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-পিটিশনারদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এমন মোট ৯ টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগে শুনানিকালে নথিপত্রে দৃশ্যমান এই নজিরবিহীন দ্রুতি, প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র সামনে এলে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল পিটিশনারদের কিছু বাদ দেয়া হয়েছিল, আবার কিছু যুক্তও হয়েছিল। আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল। কাল আদেশের পর বিস্তারিত বলতে পারব।
বঙ্গভবন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। আজ দুপুরে বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য কোনো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১ দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নয়, দেশে ইতোমধ্যে সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ ও কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। সেই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যা অঙ্গীকার করে, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী, এটি শুধু কাগজে-কলমে কোনো পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে কী করণীয়, কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয়ে পরিকল্পনা, গবেষণা ও কাজ চলেছে এবং তারই একটি অংশ নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জনগণের জন্য কী কী করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড , খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব ও ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপদেষ্টা আরো বলেন পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৮টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় আনা গেলে অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি হবে। চট্টগ্রামের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম একটি অনন্য ভূপ্রকৃতির অঞ্চল। তবে পাহাড় ধসসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকি এখানে রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ ভুমিধ্বস, দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় উপকৃত হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া সদর দপ্তরের এসপিপি কর্নেল খলিল উল্লাহ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, সিডিএ এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ক্রসফায়ার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আইজিপি হিসেবে ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। অন্য কোনো কর্মকর্তার নামও সামনে আসতে পারে। আলোচনায় থাকা তিন কর্মকর্তা হলেন—আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই তিন কর্মকর্তা পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, কর্মকর্তাদের অতীত কর্মজীবন এবং সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর পুলিশ নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কেন আলোচনায় আইজিপি পদে পরিবর্তন? গত সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধা করবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হয়, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ আখ্যা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। আইজিপির এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্যটিকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ‘ঠিক হয়নি’। এ বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়। হাসিব আজিজ: এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হাসিব আজিজ বর্তমানে এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের মার্চে তাকে এপিবিএনের প্রধান করা হয়। সিএমপির কমিশনার হওয়ার আগে তিনি সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। কর্মজীবনে ইন্টারপোল ডেস্কের প্রধান, টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং এপিবিএন সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে শরীয়তপুরে জন্ম নেওয়া হাসিব আজিজ সাবেক আইজিপি এম আজিজুল হকের সন্তান। এম আজিজুল হক ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। মোশাররফ হোছাইন: সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যে আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সিআইডি প্রধান হওয়ার আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে থাকাকালেই তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। মাঠপর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া সিআইডি সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটসহ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ডিএমপি, সিএমপি, র্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরেও বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। আহসান হাবিব পলাশ: এসআরবির প্রথম প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রথম মহাপরিচালক। এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা পলাশ ১৯৯৫ সালে এএসপি হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের মার্চে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়ে র্যাবের ডিজি হিসেবে নিয়োগ পান পলাশ। ২৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে সেপ্টেম্বরে এসআরবির প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। র্যাবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ছিলেন। এর আগে ডিএমপি, সিএমপি, সিলেট মহানগর পুলিশ, এপিবিএন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং বিভিন্ন জেলার মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিএমপি কমিশনারের নামও আলোচনায় আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, আইজিপির ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুলিশ নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হলেও নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মারুফ ওরফে দুখু (১৮) নামের এক যুবক নিহত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ধলপুর সিটি গলির পাশের মাঠে এ গুলির ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মারুফ বর্তমানে ধলপুর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি আব্দুর রশিদের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। পেশায় তিনি সায়েদাবাদ মালঞ্চ সেন্টারের পাশের একটি গলির পাতিল কারখানার শ্রমিক ছিলেন। নিহতের স্ত্রী মিম জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন মারুফ। এরপর বাসার পাশেই সিটি পল্লীর মাঠে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা জানান তিনি আর বেঁচে নেই। স্বামীর অকালমৃত্যুতে শোকাভিভূত মিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার স্বামী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিল। তিনি কারো সাথে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা ঝামেলায় জড়াতেন না। কারা, কী উদ্দেশ্যে তাকে এভাবে গুলি করে হত্যা করল-আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জন। এর আগে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৮১ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।
রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তাঁর নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, “এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।” মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যারা বাইরে থেকে এসে মাদক দিয়ে যায়, তাদের আটক করতে পারবে—এমন ব্যক্তিদের আমার মাথায় করে রাখব। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশ অভিযান চলবে,বাংলাদেশে কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।” অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হাতজোড় করলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি হবে।” এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁদের নিয়ে আসেন। ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আজ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পরীক্ষায় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র, কেন্দ্র নং- ৪৩ এ অনুষ্ঠিত পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একজন পরীক্ষার্থীকে মোবাইলসহ আটক করা হয়েছে। আটককৃত পরীক্ষার্থীর নাম রেশমা আক্তার (২৫)। তার বাড়ি রাজারহাট, থানার কুড়িগ্রাম জেলায়। পরীক্ষা চলাকালে তিনি গোপনে মোবাইল ফোন দিয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিদর্শক বিষয়টি দেখে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো: আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনে তাকে ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে।
রদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে আরিচা, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আরিচা নদীবন্দরের আওতাধীন এসব ঘাট ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ঘাটগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সচিব। পরিদর্শনকালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘাটগুলোতে নেওয়া ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন সচিব। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির ও মো. মাসুদুর রহমানসহ বিআইডব্লিউটিএ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তদারকি, গাছপালার যথাযথ পরিচর্যা এবং অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।