জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ভাগ্যোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ধোলাইখাল টং মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ধোলাইখাল পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত এলাকা। এই এলাকার সঙ্গে তাঁর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এখানে ঢাকা শহরের একটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ হয় এবং জনগণ আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এই মার্কেটের সামনে তিনি প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোয় আমরা যে আন্দোলন-সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলাম, সেটি অর্জন করতে পারব, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারব, জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারব, জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমরা কামনা করি।
ইশরাক হোসেন বলেন, মার্কেটের উন্নয়নের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, দোকানমালিক, শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভাগ্যোন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে চান।
ধোলাইখাল টং মার্কেট স্থায়ী করার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে, অতীতে মার্কেটটি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাবা মেয়র থাকাকালে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন যেহেতু আমাদের বিএনপির সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, আপনারা এই ফাইলটা নিয়ে মুভ করেন। আবার যেখানে যেখানে আপনাদের পক্ষে কথা বলার দরকার, সেটা আমি অবশ্যই করব।”
মার্কেট স্থায়ী করার পরিকল্পনা ব্যবসায়ীদের নিজেদের ঠিক করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁরা যে ধরনের পরিকল্পনা করবেন, তা বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে ডাকলে তিনি সহযোগিতা করবেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে গেছেন। জীবিত থাকা পর্যন্ত তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির ৩১ দফার কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অতীতে যেসব সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে, সেগুলো সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন। এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুত্রাপুর থানা বিএনপি ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে তাঁরা যেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের সমস্যাগুলো তাঁর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। সমস্যাগুলো জানানোই তাঁদের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক পথচলায় ধোলাইখালের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের গুরুত্ব তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর রাজনৈতিক শিকড় ও মূল শক্তি তাঁরা। তাঁদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার সব সময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর পেছনে যে রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’ সনদের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে অতীতে হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ এই সনদ চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে সনদটির আইনি ভিত্তি দেওয়া নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিকভাবেই সমাধানের পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনো ‘জুলাই’ সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। লংমার্চের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার কার্য পরিচালনায় বিচারকেরা যথেষ্ট স্বাধীন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে তাঁরাও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। তাই রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টির প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ১৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৫০ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭১৫। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে শুরু হয় গণনা। সর্বশেষ পাওয়া ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের পথে এগিয়ে যান বিএনপির প্রার্থী। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫২ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ এবং জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। দিনভর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে নির্বাচনে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না। এ ছাড়া ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আসনটিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালন করেন বিজিবির ২১ প্লাটুন সদস্য, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ২৭২ সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্বে ছিলেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক। নির্বাচন চলাকালে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ বিতরণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতের এক নেতাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি। কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে। তবে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টির ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ের ব্যবধান স্পষ্ট হলেও বাকি দুটি কেন্দ্রের ফল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের পরই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল নিশ্চিত হবে।
বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে আজ বুধবার বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস, ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব মো: শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং বাথরুম ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান যে, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এসব ভালো অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে যেমন সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না, তেমনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবে সরকার। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা শহরের নাগরিক সেবা ও পানির সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধন করে সংগ্রহ করা হয়। মাটির নিচের পানির ওপর চাপ কমাতে এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে সরকার আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডির ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া উচিত। একইসাথে সুস্থতার জন্য খেলাধুলার সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ Malalay Ahmadzai, ডব্লিউএইচও (WHO) বাংলাদেশ প্রতিনিধি (OIC) Dr. Rajesh Narwal এবং ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ (WASH Section) Mr. Peter Maes। বক্তব্যে অতিথিরা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথবাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬-এর এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।