গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তাই নতুন করে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারাদেশের চিংড়ি ঘের নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আলোচনা এবং দর-কষাকষির ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কোনো কোনো মহল নিজেদের স্বার্থে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করছে।
তিনি জানান, গার্মেন্টস ও বিকেএমইএ-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রায় সব নেতার সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
কিছু গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকা এবং শ্রমিকদের সড়কে অবস্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করতে পারে। কেউ কারখানা বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। তাই শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা—সব বিষয়ই সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সচেষ্ট। তবে শ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল কিংবা শিল্প খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিনই তাঁকে ঘিরে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তিনি যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন এ ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে সরকার মনে করে। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। ডিসেম্বরের পরও বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এদিকে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই শ্রমিকদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি। জাহেদ উর রহমান জানান, সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেভাগেই বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে কিছু ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির হাতে থাকা বিপুল অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।
আজ ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০:৩০টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার (নন রেসিডেন্ট) মি. ডেরেক লোহ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে ২৯ মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং এবং সিঙ্গাপুরের ফরেন অ্যাফেয়ার্স মিনিস্ট্রির সাউথ এশিয়া ও সাব সাহারা আফ্রিকান ডিরেক্টরেটের কান্ট্রি অফিসার ম্রিথিনি টিজি গ্রিথারান। সৌজন্য বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনার মি. ডেরেক লোহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরবাসীর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী ডেঙ্গু জ্বর ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প আয়োজিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে বিশ্বাস করে। আমরা বিনা ভোটে বা রাতের অন্ধকারে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণ ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। সাত মাস সময়ে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রমাণ হিসেবে মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিন্দুমাত্র জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ বরদাশত করা হবে না। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া উপনির্বাচনের ফলাফলের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ অসংগঠিত রাজনৈতিক চক্রান্ত প্রত্যাখ্যান করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। বিরোধী দলগুলোর সস্তা রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের জনগণ প্রত্যাখান করেছে। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল দল; সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা বা বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের মতো ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন—এটিই বিএনপির সততা ও অন্যান্য দলের সাথে মূল পার্থক্য। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ, গ্যাস, প্রাথমিক চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিষ্কার ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার যে প্রচেষ্টা বিএনপি গ্রহণ করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে ঢাকাবাসী বিএনপির প্রার্থীদের আবারও নির্বাচিত করবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের মতো উদ্যোগ অসহায় ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকার বাসিন্দাদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও সেখানে দিনব্যাপী ক্যাম্পে আগত নগরবাসীদের স্ত্রীরোগ, শিশুস্বাস্থ্য, চর্মরোগ, ইপিআই, পরিবার পরিকল্পনা, অসংক্রামক ব্যাধি (NCD), পুষ্টি সেবা এবং সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এতে সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।