ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন মনিরুল ইসলাম স্বপন। ২০০৩ সালে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ে সদস্য, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর-সংক্রান্ত দায়িত্ব, গুলশান জোনের টিম লিডার, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা ছিল স্বপনের। হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ছিলেন তিনি। আন্দোলন চলাকালে হামলা-মামলা ও পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর মুখের ভেতরে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখেন মনিরুল ইসলাম স্বপন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের মূল্যায়ন করে সভাপতি পদে মনিরুল ইসলাম স্বপনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
তবে নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর থেকেই নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন মনিরুল ইসলাম স্বপন। ২০০৩ সালে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ে সদস্য, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর-সংক্রান্ত দায়িত্ব, গুলশান জোনের টিম লিডার, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা ছিল স্বপনের। হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ছিলেন তিনি। আন্দোলন চলাকালে হামলা-মামলা ও পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর মুখের ভেতরে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখেন মনিরুল ইসলাম স্বপন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের মূল্যায়ন করে সভাপতি পদে মনিরুল ইসলাম স্বপনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর থেকেই নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ভাগ্যোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ধোলাইখাল টং মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। ইশরাক হোসেন বলেন, ধোলাইখাল পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত এলাকা। এই এলাকার সঙ্গে তাঁর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এখানে ঢাকা শহরের একটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ হয় এবং জনগণ আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এই মার্কেটের সামনে তিনি প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোয় আমরা যে আন্দোলন-সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলাম, সেটি অর্জন করতে পারব, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারব, জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারব, জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমরা কামনা করি। ইশরাক হোসেন বলেন, মার্কেটের উন্নয়নের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, দোকানমালিক, শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভাগ্যোন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে চান। ধোলাইখাল টং মার্কেট স্থায়ী করার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে, অতীতে মার্কেটটি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাবা মেয়র থাকাকালে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন যেহেতু আমাদের বিএনপির সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, আপনারা এই ফাইলটা নিয়ে মুভ করেন। আবার যেখানে যেখানে আপনাদের পক্ষে কথা বলার দরকার, সেটা আমি অবশ্যই করব।” মার্কেট স্থায়ী করার পরিকল্পনা ব্যবসায়ীদের নিজেদের ঠিক করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁরা যে ধরনের পরিকল্পনা করবেন, তা বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে ডাকলে তিনি সহযোগিতা করবেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে গেছেন। জীবিত থাকা পর্যন্ত তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন। ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির ৩১ দফার কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অতীতে যেসব সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে, সেগুলো সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন। এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুত্রাপুর থানা বিএনপি ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে তাঁরা যেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের সমস্যাগুলো তাঁর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। সমস্যাগুলো জানানোই তাঁদের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক পথচলায় ধোলাইখালের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের গুরুত্ব তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর রাজনৈতিক শিকড় ও মূল শক্তি তাঁরা। তাঁদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার সব সময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন—এ নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী নেতারা দলের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তৎপরতা। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় উঠে এসেছে বৃহত্তর পল্লবী যুবদল নেতা রাজিব হোসেন পিন্টুর নাম। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব আসুক, যারা সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও কর্মীবান্ধব মনোভাব দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যুবদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে মোহাম্মদ রাজিব হোসেন পিন্টুর। তিনি বৃহত্তর পল্লবী যুবদলের সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন পালন করেন তিনি । সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীদের আলোচনায় এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে রাজিব হোসেন পিন্টু ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে। তাদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা নতুন কমিটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে। সাধারণ সম্পাদক পদে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে দায়িত্ব জুটবে, তা নির্ভর করছে দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ ও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে এখন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও প্রত্যাশা।