ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কারচুপির অভিযোগ তুলে রাজধানী নয়াদিল্লিতে মহাসমাবেশ করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। রোববার ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন বিরোধী নেতারা।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ইভিএম ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে এক কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে খাড়গে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভুলবশত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।
এদিকে বিরোধীদের এই বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা। তাঁদের দাবি, ঘুষ, বিদেশি অর্থায়ন ও জালিয়াতির মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচন নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তাঁরা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পেয়েছে সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণেই নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা ভোট চুরির অভিযোগ তুলছেন। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষেরই সরকার গঠন কঠিন হওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলাকে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান বলেন, ইরানের সঙ্গে আবারও সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে। তার মতে, বারবার সংঘাতে জড়ানো নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, 'ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত পরিচালনার মতো নৈতিক বৈধতা, এমনকি মৌলিক সক্ষমতাও নেতানিয়াহুর নেই।' এদিকে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল ও ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকার পেছনে নিজের সমর্থনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর পর নির্বাচনী সমীকরণ বদলে যায় এবং সম্ভাব্য বড় পরাজয় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। সেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরভিং সি. শয়ার্টজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর পর নির্বাচনের গতিপথ বদলে গেছে। পরিস্থিতি এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, এমনকি নেতানিয়াহুর জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। পরে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বুথফেরত জরিপগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর দল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। তাঁর মতে, সমর্থন জানিয়ে দেওয়া বার্তাটি নেতানিয়াহুকে নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তা করেছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও মনে করছেন, নেতানিয়াহু প্রত্যাশার তুলনায় ভালো লড়াই করেছেন। নির্বাচনে তাঁর অবস্থানকে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা জয়ের সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থানে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখানে নেই। নির্বাচনে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না।