টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও অচলাবস্থার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। ছুটি শেষে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বিক্ষোভের কারণে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে অস্থিরতা এড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবেই কারখানায় প্রবেশ করছেন। কারখানার ফটকগুলোতে ছিল অন্য যেকোনো কর্মদিবসের মতো চিত্র। কোথাও শ্রমিকদের নতুন করে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, কারখানার আশপাশ ও মহাসড়কে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কাজে ফিরে তাঁরা আনন্দিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্মস্থলে ফেরা কয়েকজন শ্রমিক জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বেতন বাড়ানোর দাবির সঙ্গে একমত। তবে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন, ভাঙচুর কিংবা কারখানায় অস্থিরতা চান না তাঁরা। নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ন্যায্য দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে চান।
উল্লেখ্য, বেতন বাড়ানোর দাবিতে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দফায় মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি দামের চাপ এবার মাছের বাজারেও। ইলিশ, চিংড়ি, পাবদা, রুই, কাতলা থেকে শুরু করে পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া—প্রায় সব ধরনের মাছের দামই চড়া। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাছ। অনেকের অভিযোগ, প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে মাছ বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেও পছন্দমতো মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের দাম তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর পাইকারি মাছের আড়ত থেকে নগরীর বিভিন্ন বাজারে মাছ সরবরাহ করা হয়। পাইকারদের দাবি, সরবরাহে ঘাটতি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়সহ নানা কারণে বেড়েছে মাছের দাম। জেলেদের মাছ ধরার কাজে ডিজেল খরচের পাশাপাশি পরিবহনেও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে মাছ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহের ওপরও প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছাতে মাছের দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীর একেক এলাকার বাজারে একই মাছের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। তাদের মতে, নদীর মাছের দামে ওঠানামা বেশি হলেও চাষের মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাছের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াও দামের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মাছের খাদ্য বা ফিড তৈরির উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া ও দূষণের কারণে দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মৎস্য পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে মাছের কোনো ঘাটতি নেই। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছের দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। মাছের খাবার তৈরির বিভিন্ন উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ফিডের দাম বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া জলাভূমি কমে যাওয়া ও দূষণের কারণেও মাছের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মাছের দাম বাড়ার পেছনে শুধু উৎপাদন ব্যয় কিংবা সরবরাহের ঘাটতিই দায়ী নয় বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির অভিযোগ, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাও বাজারে দামের চাপ বাড়াচ্ছে। ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা আগাম দাদনের মাধ্যমে মাছ কিনে রাখছেন। এতে বাজারে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাছ কেনাবেচার যথাযথ রসিদ কিংবা হিসাব না থাকায় প্রকৃত ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য যাচাই করা কঠিন। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ তার। এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ৫১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। উৎপাদন বাড়লেও সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে মাছের দাম চলে যাওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ চেইন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।