মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেলের দর ২ শতাংশের বেশি বাড়ে। এতে গত এপ্রিলের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১১৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তুলনামূলক বেশি লেনদেন হওয়া জানুয়ারির চুক্তির দামও ২ ডলার ৬৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ৪৩ সেন্ট হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। পুরো অক্টোবর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিওকে ফাইন্যান্সিয়ালের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার দিকে নজর রাখবেন ব্যবসায়ীরা। তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার একটি ছোট নৌযান থেকে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে প্রণালিটিতে একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামুদ্রিক খাতের সূত্রগুলোর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ছোট নৌযান থেকে জাহাজে বিস্ফোরক লাগিয়ে চালানো এটিই প্রথম সফল হামলা। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসের (এসডিআর) সমপরিমাণ ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি ও তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। তবে ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময়। ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এ ঋণ চুক্তির মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ইনিংসে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। নাঈম হাসানের অভিষেক টেস্ট ফিফটিও বড় লক্ষ্য গড়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি। ১৭০ রানের লক্ষ্য ২ উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) চতুর্থ দিন শেষ হওয়ার আগেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ২৪৫ রান করেছিল স্বাগতিকরা। এতে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রান যোগ হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। জাকের আলীর ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ ৩৬ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। জোমেল ওয়ারিকানের শিকার ৪ উইকেট, খরচ করেন ৬৩ রান। চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন শেষ বিকেলে জাকের আলী ও নাঈম হাসানের দৃঢ়তায় লিড একশ ছাড়িয়েছিল। দিনের শুরুতে এই জুটির কাছ থেকেই বড় সংগ্রহের প্রত্যাশা ছিল দলের। তবে ওয়ারিকানের প্রথম ওভারেই স্লিপে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের। পরের ওভারে নিজের বলে হাসান মাহমুদের ক্যাচ ছাড়েন ওয়ারিকান। কিছুক্ষণ পর নাঈমের ক্যাচও হাতছাড়া করেন চেজ। ২৯ রানে জীবন পেয়ে এরপর একপ্রান্ত আগলে রাখেন নাঈম। বৃষ্টির বিরতির আগে ওয়ারিকানের বলে ফিরে যান হাসান মাহমুদ। তাইজুল ইসলামের ব্যাটের এজে ক্যাচ নিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১০০তম উইকেট পূর্ণ করেন চেজ। বৃষ্টি থামার পর অভিষেক টেস্টেই ফিফটি তুলে নেন নাঈম। তবে পরের ওভারেই চেজকে আক্রমণ করতে গিয়ে আউট হন তিনি। তাতেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১১২ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে রান তোলার গতি বাড়ান ক্যাম্পবেল। বৃষ্টির বিরতির সময় ১৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৩ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। বিরতির পরও দুই ওপেনারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত থাকে। টানা তিনটি চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন কিং। ওই ওভারে ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ১১২ রানে শরিফুল ইসলামের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ক্যাম্পবেল। তবে ততক্ষণে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে তেজনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন কিং। চন্দরপল ফিরে গেলেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। অন্য প্রান্তে কাভেম হজ দ্রুত রান তুলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন ব্র্যান্ডন কিং। ১৭০ রানের লক্ষ্য ৪.৯-এর কাছাকাছি রানরেটে পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচজুড়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন জোমেল ওয়ারিকান। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম হাসান ৫২, জাকের আলী ২২; রস্টন চেজ ৫/৩৬, জোমেল ওয়ারিকান ৪/৬৩)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (ব্র্যান্ডন কিং ৮১*, জন ক্যাম্পবেল ৪৯; হাসান মাহমুদ ১/১৪, শরিফুল ইসলাম ১/২০)। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী। দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর পেছনে যে রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’ সনদের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে অতীতে হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ এই সনদ চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে সনদটির আইনি ভিত্তি দেওয়া নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিকভাবেই সমাধানের পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনো ‘জুলাই’ সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। লংমার্চের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার কার্য পরিচালনায় বিচারকেরা যথেষ্ট স্বাধীন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে তাঁরাও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। তাই রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুবসমাজকে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মনির্ভর জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো এ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোববার (১ নভেম্বর) দিবসটি পালিত হবে। শনিবার দেওয়া বাণীতে তিনি যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। যুব উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি পায়। তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁদের মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি। তিনি জানান, যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় যুব পুরস্কারের মাধ্যমে জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবেশ সংরক্ষণেও যুবসমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্বে তরুণদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্যও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর পেছনে যে রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’ সনদের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে অতীতে হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ এই সনদ চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে সনদটির আইনি ভিত্তি দেওয়া নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিকভাবেই সমাধানের পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনো ‘জুলাই’ সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। লংমার্চের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার কার্য পরিচালনায় বিচারকেরা যথেষ্ট স্বাধীন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে তাঁরাও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। তাই রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণ করছেন ভিকি জাহেদ। ছবির নাম ‘খলনায়ক’। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারধর্মী এই সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে তাঁর। সিনেমাটির প্রযোজনায় রয়েছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির আগের সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’, ‘দাগি’, ‘তাণ্ডব’ ও ‘দম’। ‘খলনায়ক’-এর কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী। তাঁদের সঙ্গে দেখা যাবে তমা মির্জাকে। এ ছাড়া সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, ইন্তেখাব দিনার, সুমন পাটোয়ারী, গাজী রাকায়েত, বিজরী বরকতউল্লাহ, সোহেল মণ্ডল, সুমন আনোয়ার, তুষার খান ও সেঁজুতি। বিশেষ একটি চরিত্রে থাকছেন কলকাতার অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সিনেমাটি নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘ভিকি জাহেদের কাজে সবসময়ই নতুনত্ব ও ভিন্ন ঘরানার গল্প থাকে। “খলনায়ক” সিনেমার চরিত্রটি বেশ জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক, যা একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে।’ এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল জানান, দর্শকদের জন্য বিশ্বমানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন তাঁরা। ‘খলনায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট ও ইহাই ইন্টিগ্রেশন। শিগগিরই সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসের (এসডিআর) সমপরিমাণ ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি ও তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। তবে ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময়। ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এ ঋণ চুক্তির মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেলের দর ২ শতাংশের বেশি বাড়ে। এতে গত এপ্রিলের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১১৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তুলনামূলক বেশি লেনদেন হওয়া জানুয়ারির চুক্তির দামও ২ ডলার ৬৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ৪৩ সেন্ট হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। পুরো অক্টোবর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিওকে ফাইন্যান্সিয়ালের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার দিকে নজর রাখবেন ব্যবসায়ীরা। তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার একটি ছোট নৌযান থেকে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে প্রণালিটিতে একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামুদ্রিক খাতের সূত্রগুলোর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ছোট নৌযান থেকে জাহাজে বিস্ফোরক লাগিয়ে চালানো এটিই প্রথম সফল হামলা। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
রাজধানীর হাজারীবাগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের টহল দলের ওপর হামলা, সরকারি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর ও গাড়িচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। হাজারীবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ চর ওয়াশপুর এলাকার একটি বাড়ির ছাদে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ পেয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিবাদীরা অতর্কিতভাবে টহল দলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে টহল দলের গাড়িচালক কনস্টেবলের ডান হাতের কবজি ও ডান কাঁধে গুরুতর আঘাত করে এবং সরকারি পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ও বডি ভাংচুর করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ বিল্লাল হোসেন সানি (২০), ২। আফসানা আক্তার রিয়া (২৪), ৩। ফাতেমা আক্তার সনিয়া (৩৭), ৪। মোঃ রুবেল মাজি ওরফে রড রুবেল (৩০) এবং ৫। মাইদুল ইসলাম তামিম (২০)। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে হাজারীবাগ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY